ভ্রমণ কন্যা এলিজা এখন জামালপুরে

‘ঐতিহ্যের সন্ধানে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশের নানা প্রান্ত ঘুরে বেড়ান। নিজেকে পরিচয় দেন ‘ঐতিহ্য পর্যটক’ হিসেবে। সংগ্রহ করেন সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এককথায় যাকে বলে—হেরিটেজ ট্যুরিজম বা ঐতিহ্য পর্যটন।

‘ঐতিহ্য পর্যটক’ হিসেবে খ্যাত ভ্রমণ কন্যা এলিজা বিনতে এলাহী এখন যমুনা, ঝিনাই, সুবর্ণখালী নদী বিধৌত ‘প্রাচ্যের দ্বিতীয় ড্যান্ডি’ খ্যাত জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায়। জেলার ইসলামপুরে জন্মগ্রহণ করলেও বেড়ে ওঠেছেন ইট-পাথরের শহর ঢাকায়। এলিজা বিনতে এলাহী বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক। দেশের মানচিত্র ছাড়িয়ে ইতোমধ্যে ৪৯টি দেশ ঘুরেছেন তিনি। সংগ্রহ করেছেন সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট চট্রগ্রাম ভ্রমণের মাধ্যমে শেষ হয় তার প্রথম ধাপের ৬৪ জেলার হেরিটেজ জার্নি। ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে আবারো পুরো দেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। করোনার কারণে মাঝে কিছুদিন তার এ ভ্রমণ বন্ধ থাকলেও আবারও পথে পথে ঘুরছেন এলিজা।

রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তিনি উপজেলার সকল ঐতিহাসিক এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন। সংগ্রহ করেন সেখানকার নানা তথ্য ও উপাত্ত। দুপুরে প্রকাশনা সংস্থা ‘নৃ-কথা’ ও মিলন স্মৃতি পাঠাগারের যৌথ উদ্যোগে রুদ্র বয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সুবর্ণ উৎসব পালিত হয়। এ সময় অতিথি হিসেবে বিজয়ের ৫০ বছরে ৫০ জনকে নৃ-কথা ম্যাগাজিন বিতরণ করেন।

তিনি জানান, ১৯৯৯ সালে বিশ্ব ভ্রমণের মাধ্যমের তার ঘুরে বেড়ানোর অধ্যায়টা শুরু হয়। ২২ বছর যাবত তিনি ভ্রমণ করছেন। ২০১৬ সালের ১৭ মে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে ‘আমার ঐতিহ্যের বাংলাদেশ, হেরিটেজের বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে এলিজা হেরিটেজ ভ্রমণ শুরু করেন। ‘কোয়েস্ট : অ্যা হেরিটেজ জার্নি অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখেন। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ৪৯টিরও বেশি দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে ভ্রমণ করেন। সে অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘এলিজা’স ট্রাভেল ডায়েরি’ ও ‘এলিজা’স ট্রাভেল ডায়েরি-২’ নামে দুটি বইও লিখেন।

ভ্রমণ বিষয়ে এলিজা তরঙ্গ বার্তাকে বলেন, ‘ প্রথম ধাপে কিছু বিষয় বাদ পড়ার কারণে তিনি দ্বিতীয় ধাপে আবারও দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি এসেছেন সরিষাবাড়ী উপজেলায়। এ উপজেলা সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। ব্রিটিশ আমলে এখানে নদী বন্দর ছিলো। নদীবন্দর থেকে সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও কলকাতার সাথে নৌপথে ব্যবসা-বাণিজ্য হতো। সে সময় পিংনায় ফৌজদারি ও মুনসেফ কোর্ট ছিল। মহাকবি কায়কোবাদ পিংনায় পোস্টমাস্টার থাকাকালে ‘মহাশশ্মান’ কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন। এশিয়ার বৃহত্তম দানাদার ইউরিয়া সারকারখানা এই উপজেলায় অবস্থিত। তিনি চান এ ভ্রমণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে—যারা দেশের পর্যটন শিল্প বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

 

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'