সরিষাবাড়ীতে দলিল লেখক সমিতির জোর পূর্বক টাকা উত্তোলন

ফাইল ছবি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন দলিল করতে আসা ভুক্তভোগী গ্রহীতারা সহ সেরেস্তা খানার কিছু আদর্শবাদী দলিল লেখক।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সোমবার হতে বিতর্কিত ও নবগঠিত দলিল লেখক সমিতি এই চাঁদাবাজির প্রক্রিয়া চালু করে।

সূত্র জানায়, প্রতিটি দলিল লেখককে সমিতির মনগড়া তৈরিকৃত একটি চার্ট ধরিয়ে দিয়েছে। যে চার্টে ন্যূনতম ৪-১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করার নির্দেশনা দিয়েছে সমিতি কর্তৃক প্রতিটি দলিল লেখককে।

যদি কোন দলিল লেখক ভূমি গ্রহীতার কাছ থেকে এ চাঁদা আদায় করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সেই দলিল লেখককে সাব-রেজিস্টার অফিসে আসতে মানা করে দেয় তারা (সমিতি সিন্ডিকেট গ্রুপ)।

সূত্রে আরও জানা যায়, দলিল লেখক সমিতি ৬ সদস্য বিশিষ্ট সিন্ডিকেট গ্রুপ অফিস চলাকালীন সেরেস্তা খানায় সর্বক্ষণ তদারকি করে এবং প্রতিটি দলিলের মূল্য অনুযায়ী চাঁদা আদায় করে গ্রহীতাদের কাছ থেকে। যদি কেউ চাঁদা দিতে রাজি না হয় তাহলে সেই গ্রহীতার দলিল সম্পাদনা করতে দেওয়া হয়না বলে জানান দলিল গ্রহীতারা।

এমনি একজন ভুক্তভোগী দলিল গ্রহীতা মোঃ আবু সামা জানান, আমি ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারা মৌজার ৬ শতাংশ জমি ১২লাখ টাকা মূল্যে দরদাম ঠিক করে দাতাকে টাকা পরিশোধ করি এবং দলিল লেখার জন্য ভাটারা ইউনিয়নের দলিল লেখক আবুল কালাম আজাদ এর সাথে কথা বলি এবং দলিল করার বিষয়ে খরচাদি সর্বসাকুল্যে ৮০ হাজার টাকা দিবো বলে চুক্তি করি। পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দাতা দুলাল মিয়াকে নিয়ে সরিষাবাড়ী সাব-রেজিস্টার অফিসে যাই দলিল করতে। দলিল লেখা শেষ হলে, দলিল লেখক সমিতি’র একজন ওই দলিলের উপর টাকা (১৬হাজার) দাবি করে আর না দিতে পারলে দলিল পাস হবেনা বলে জানিয়ে দেন তারা।

ভূমি গ্রহীতা আবু সামা’র পিতা, হাজী মোঃ বরকত আলী মন্ডল এর সাথে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হাজী মোঃ নিজাম উদ্দিন দুলালের ঘনিষ্ঠ পরিচয় থাকার সুবাদে ১৬ হাজারের পরিবর্তে ১০ হাজার টাকা নেন বলে জানান তিনি।

অপরদিকে আরেক দলিল গ্রহীতা মোঃ আল আমিন, পিতা- আমির হোসেন, গ্রাম- সেঙ্গুয়া শিবপুর, মহাদান ইউনিয়ন হতে আসেন ৬ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি দলিল করতে। কিন্তু দলিল লেখক সমিতি’র ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করায় দলিল কার্য সম্পূর্ণ না করেই তাঁরা বাড়ী ফিরে যান বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি এ কে এম আশরাফুল ইসলাম আশরাফ।

এব্যাপারে অত্র গ্রহীতাদ্বয়ের দলিল লেখক আবুল কালাম আজাদ ও মাহবুবুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলে তাঁরা জানান, ঘটনা সত্য এবং খুবই নিন্দনীয়।

অপরদিকে সরিষাবাড়ী সাব-রেজিস্টার অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় ৩০/৪০টি দলিল সম্পাদনা করা হয়। আর এই সুবাদে দলিল লেখক সমিতি প্রতিদিন টাকা আদায় করে প্রায় ৪/৫ লক্ষ টাকা। যা কিনা সম্পূর্ণ বেআইনি অন্যায় এবং সাধারণ মানুষের উপর জুলুম বলে আখ্যায়িত করেছেন সমিতির বহির্ভূত কিছু দলিল লেখকসহ ভুক্তভোগী গ্রহীতারা।

সেরেস্তা খানায় কর্মস্থল হারানোর ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ দলিল লেখক দুঃখ করে বলেন, আমরা কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে সারাজীবনের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার সন্ধিক্ষণে পড়েছি। জানিনা কতদিন নিজের সততা ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এই স্বার্থন্বেষী অর্থলোভী সিন্ডিকেট এর পেট ভরাতে হবে । আমরা নিজেদের সততা রক্ষার্থে এবং ভূমি গ্রহীতাদের উপর এই অমানবিক জুলুম বন্ধ করতে অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এবিষয়ে দলিল লেখক সমিতি’র সভাপতি আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন দুলালকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এটি চাঁদা নয় বিভিন্ন কার্যাদির ফী বাবদ নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে সাব-রেজিস্টার অফিসের সহকারী স্টাফ কেরানী মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সেরেস্তা খানায় কে কি করছে সেটা অফিস অবগত নয়। তবে কাগজপত্র সঠিক থাকলে দলিল সম্পাদানে কেউ বাঁধা দিতে পারবেনা বলে জানান তিনি।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'