সরিষাবাড়ীতে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর যৌতুক মামলা

গ্রাম্য শালিসে থাকা মুরুব্বিয়ানদের প্রতি বিচারের আশায় তাদের মুখাপেক্ষী হয়েছিল সে (আঁখি)। কিন্তু তাদের প্রতি বিমুখ হয়ে সঠিক বিচারের আশাবাদে বিজ্ঞ জামালপুর আদালতে এমন মামলার কথা জানান আঁখি

ছবিঃ প্রতিকী ছবি

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে স্বামী এনামুল হাসান তারেকের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেছে তার স্ত্রী আয়শা আক্তার আঁখি।

জানা-যায় আরামনগর গ্রামের আশরাফ আলী হায়দারের কন্যা আয়শা আক্তার আঁখি ও চর সরিষাবাড়ীর তুরাব আলীর ছেলে এনামুল হাসান তারেকের সাথে ইসলামি শরিয়া মতে ২০১৮ সালের মার্চের ৩১ তারিখে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। প্রায় তিন-চার মাস বিবাহের সুখময় সময় অতিবাহিত হওয়ার সন্ধিক্ষণে আঁখি আক্তার তার স্বামী তারেকের আচরণ একটু আকটু ব্যতিক্রম বুঝতে পারে। যত দিন যায় ততই তার স্বামী তারেকের রূঢ় আচরণ বাড়তে থাকে আঁখি আক্তারের উপর।

জানা-যায় বিবাহের সময় যৌতুক হিসাবে একলক্ষ টাকার মূল্যে একটি বাইক ও নগদ একলক্ষ টাকা সহ আনুষাঙ্গিক বিষয়াদির উপরে আরো টাকা নেন তারেকের পরিবার। বিবাহের পর হতেই নানাবিদ অপকৌশলে বাইক চালনার খরচ, ফুয়েল সমেত মবিল তথা গ্যারেজ ম্যাকানিক খরচাদিও তারেক নিয়ে আসতো আঁখি আক্তারের পরিবার থেকে। অতঃপর মাঝে মধ্যে দশ হাজার, বিশ হাজার টাকা দাবি করতে থাকলে তার (আঁখি আক্তার) অপারগ পিতা আশরাফ আলী হায়দার টাকা দেওয়ার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানালে নেশাগ্রস্ত তারেক আঁখির উপর শারীরিক ও মানষিক রোষানল চালাতে থাকে।

এমতাবস্থায় আঁখি আক্তার তার (তারেক) কাছে এমন অসৎ আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক কোন প্রকার প্রাসঙ্গিক উত্তর না দিয়ে শুধু বলেন, আমার টাকা প্রয়োজন।

জানা-যায়, এমন স্বামী ও স্ত্রীর সাংঘর্ষিক বিষয়ে দফায়, দফায় শালিস বৈঠকও হয়েছে অনেক বার। সর্বশেষ শালিস বৈঠকে মিমাংসা হওয়ার পর থেকে প্রায় এক বছর আঁখি আক্তারকে তার পরিবারের কাছে যেতে দেয়নি তারেক হাসান ও তার পরিবার। এক বছরের মধ্যে তার (আঁখি আক্তার) বাবা-মার সাথে মুঠোফোনেও যোগাযোগ করতে দেননি তারা। প্রায় এক বছর ধরে নির্যাতিত আঁখি আক্তারের কাছে তারেক হাসান পূূূণরায় তিন লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করলে এমন টাকার দাবি সর্বপরি আর্থিক অনটনে থাকা আশরাফ আলী হায়দার পূরণ না করায় তারেক হাসান আঁখিকে নির্বিচারে অতর্কিত এলোপাথাড়ি পিটনি সমেত নানাবিধ মানুষিক নির্যাত শুরু করতে থাকে। ইতপূর্বে আঁখি আক্তারকে একদিন স্যাভলন খাইয়ে হত্যার অপচেষ্টাও করেছিল তারা। এমন নির্যাতন, বৈরী রোষানল ও হত্যার অপচেষ্টার মুহুর্তকালে সেই রাতে আঁখি আক্তারের কর্ণ গোচরে পৌছে যে তিন লক্ষ টাকা দিতে না পারলে তাকে চিরতরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে তার বাবার স্বীয় গৃহে। পরেরদিন তারেক হাসান আঁখি আক্তারকে বলেন, তোর বাবার কাছ থেকে যদি তিনলক্ষ টাকা না আনতে পারিস তাহলে চিরদিন বাবার বাড়ীতেই থেকে যাবি। আমার কাছে আসার চিন্তাটা বাদ দিবি। অতঃপর সে আরো বলে, আমি অন্য কাউকে বিয়ে করে ঘর সংসার করবো বলেই ঘারধাক্কা দিয়ে বাড়ী থেকে বের করে দেন।

আরও জানা-যায়, গ্রাম্য শালিসে থাকা মুরুব্বিয়ানদের প্রতি বিচারের আশায় তাদের মুখাপেক্ষী হয়েছিল সে (আঁখি আক্তার)। এখন তাদের প্রতি বিমুখ তিনি। তাই বিজ্ঞ জামালপুর আদালতে সঠিক বিচারের আশাবাদে মুকাদ্দমা সি আর নং ১৮৬ (১) ২০২১ ও ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধক আইনের ৩ ধারায় একটি মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'