সরিষাবাড়ীতে ধর্ষণের ঘটনা রাতের আঁধারে রফাদফার চেষ্টা

যে কোন ধর্ষণ মামলা আপোষ করা যাবে না, আপোষই ফৌজদারি অপরাধ হাইকোর্টের এই ধরনের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরও এমন একটি ঘটনা চলমান

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে রাতের আঁধারে গ্রাম্য শালিস কর্তৃক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি রফাদফা করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

ধর্ষণ মামলায় আপোষ করা যাবে না, আপোষ ফৌজদারি অপরাধ হাইকোর্টের এই ধরনের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরও পিংনা ইউনিয়নের বাশুরিয়া গ্রামের চাঞ্চল্যকর ধর্ষীতা শিশুটির পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গ্রামের কিছু দুষ্কৃতকারা মিমাংসার অপতৎপরতায় রয়েছে।

জানা যায়, পিংনা ইউনিয়নের বাশুরিয়া গ্রামের আক্তার হোসেন নামে এক দরিদ্র পিতার ১০ বছরের শিশু কন্যা আনুমানিক নয় মাস আগে একই গ্রামের সুরুজ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি দ্বারা ধর্ষিত হয় এবং অবুঝ শিশুটি বুঝে উঠার আগেই তার পেটে বড় হতে থাকে আরেকটি শিশু। ধর্ষণের প্রায় ৮ মাস পর এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পারে। বিষয়টি জানাজানির পর ধর্ষক সুরুজ মিয়া গা ঢাকা দেয়। পরে তার ( ধর্ষক সুরুজ) অনুপস্থিতে বাড়ীতে থাকা পরিবার পরিজনের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসার প্রক্রিয়া চলে গ্রামের মাতাব্বরের সমন্বয়ে এবং ধর্ষক’কে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠে একটি অসাধু চক্র। যার ফলশ্রুতিতে ধর্ষণের আলামত নষ্টে গত ৮/০৫/২০২১ ইং তারিখে ভূঞাপুরের সোনিয়া হসপিটালে শিশুটির সিজার করে অতঃপর ভূমিষ্ট হয় একটি ছেলে বাচ্চা।

এ বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগীর বাড়ীতে গত মঙ্গলবার ১৮ মে বার বার গিয়েও পরিবারের কাউকেই পাওয়া যায় নি। এলাকাবাসী জানালেন সোমবার সকাল হতেই তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তাছাড়াও ধর্ষক সুরুজ (৪৫) পলাতক থাকায় তার বাড়ীর কেউ এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হোন নি।

মিমাংসার বৈঠকে উপস্থিত থাকা হাফিজ মেলেটারি কাছে ঐ রাতে কে বা কারা উপস্থিত ছিলেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,’ রশিদ, বাঘা, আক্তার সহ আরও কয়েকজন উপস্থিত থেকে বিষয়টি মিমাংসা করে।

এ বিষয়ে রশিদ মাতাব্বরের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ শিশু ধর্ষণের বিষয়টি এলাকার সবারই জানা, এই কথা বলে তিনি চলে যান’।

এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বাংলাদেশের আইন কি বলে সে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম জেলা আইনজীবী এ্যাডভোকেট ইউসুফ আলীর নিকট, এই সময় তিনি বলেন,’ ধর্ষণ মামলায় মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ আছে আপোষ করা যাবে না, আপোষ ফৌজদারি অপরাধ। যারা এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকবে তারাও ফৌজদারি অপরাধে অপরাধী হবে, সেজন্য কোন জনপ্রতিনিধি সহ কেউই সরাসরি আপোষ মিমাংসায় বসে না। তাই যারা রাতের আঁধারে এই মিমাংসার সাথে জড়িত তারা সবাই ফৌজদারি অপরাধ করেছে বলে জানান তিনি’।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'