সরিষাবাড়ীতে বন কর্মকর্তা কর্তৃক অবৈধভাবে বৃক্ষ কর্তনের অভিযোগ এলাকাবাসীর

জানতে চাইলে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভূয়া, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি

ছবিঃ উপকার ভোগী অভিযোগকারীগণ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সদ্য বদলি হওয়া বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বহু পন্থার অনিয়মের অভিযোগ সমেত বন বিভাগ কর্তৃক ওয়াকসনের নির্ধারিত সামাজিক বনায়নের আওতার বাহিরে থাকা ব্যক্তি মালিকানার দেশীয় বনজ ও ফলজ এবং ঔষধি বৃক্ষ কর্তনের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, ২০০৩ সালে ৫০ জন উপকার ভোগীরা অর্থনৈতিক সংগতির আশাবাদে সরিষাবাড়ীর উষা নামক এন.জি.ও’র সমন্বয়ে বন বিভাগ কর্তৃক সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষ রোপনে উদ্বেলিত হয়। অতঃপর বন বিভাগের সাথে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। তারই ফলশ্রুতিতে পুরাতন ঘাট হতে পিংনা পর্যন্ত ১০ কিঃ মিঃ রাস্তার দুই ধারে ১০ বছরের চুক্তিতে বৃক্ষ রোপন সম্পন্ন করেন তারা।

জানা যায়, সম্প্রতি তারাকান্দি হতে ভূয়াপুর পর্যন্ত সড়ক ও জনপদের প্রক্রিয়াধীনে রাস্তার উন্নতিকরণ সমেত প্রসস্থ করার কাজ শুরু করা হয়। রাস্তা প্রসস্থ করণে গাছ-পালা নিরসনে ময়মনসিংহ বন বিভাগ কর্তৃক টেন্ডার প্রক্রিয়া টি সম্পন্ন করেন।

জানা যায়, টেন্ডারকৃত যে সকল গাছগুলোয় বন বিভাগ কর্তৃক নাম্বার বসানো হয়েছিলো সেই সকল গাছের বাহিরে ব্যক্তিমালিকানার আওতায় থাকা প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার গাছ কর্তন করার অভিযোগ পাওয়া-গেছে। তাছাড়াও পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া উত্তরাধিকারীদের জমিতে বেড়ে উঠা বৃক্ষ কর্তন করার বিষয়ে গাছ মালিক পক্ষ বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তাদের কে (গাছ-মালিকগণ) বলেন, সরকারী কাজে বাঁধা দিলে মামলা করবে বলে হুমকি দেন।

জানা-যায় পুুুরাতন ঘাট হতে পিংনা পর্যন্ত গাছের ৫২ টি প্লটের মধ্যে ৪৪ টি প্লটের গাছ কাটার অনুমতি পায় ঠিকাদার। সদ্য নিযুক্ত বন কর্মকর্তা সরোয়ার জাহান সদ্য বদলি হওয়া বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কাছ থেকে অফিশিয়াল ডকুমেন্টারি বুঝিয়ে নেয়ার সন্ধিঃক্ষণে সামাজিক বনায়ন পুরাতন ঘাট হতে পিংনা পর্যন্ত ৪৪ টি প্লটের বাহিরে থাকা ৮টি প্লটে ১৭৭ টি বৃক্ষের মধ্যে ৭৯ টি বৃক্ষ বুঝিয়ে দেন সদ্য নিযুক্ত উপজেলা বন কর্মকর্তা সরোয়ার জাহানকে এবং বাকি বৃক্ষগুলো ভর্তুকি দিবেন বলে লিখিত স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। সরিষাবাড়ী উপজেলা বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম উপকার ভোগীদের অংশের টাকা উত্তোলনে বিভিন্ন জটিলতা আছে বলে উপকার ভোগীদের অংশের টাকা পাবেনা বলে ভয় ভীতি দেখিয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাসে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার (২৫০০০০) টাকা দাবি করলে উপকার ভোগীরা নগদ পঞ্চাশ (৫০০০০) হাজার টাকা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে সরোয়ার জাহান উপজেলা বন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি এখনো সব কিছু বুঝে পায়নি তাই এখনই কোন মন্তব্য করা সমীচীন নয়’।

উপজেলা বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে (উপজেলা সাবেক বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম) জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভূয়া, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট’

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'