ভালোবাসায় মানবতার জয়- সরকার আবুল হোসেন

ছবিঃ সরকার আবুল হোসেন

ভালোবাসা একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক একটি অভিজ্ঞতা যার মাধ্যমে মানবতাকে জয় করা সম্ভব বলে মন্তব্য করছেন শিক্ষা বিষয়ক গবেষক সরকার আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ভালোবাসা, তবুও ভালোবাসাকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়। আবেগধর্মী ভালোবাসা সাধারণত গভীর হয় । বিশেষ কারো সাথে নিজের সকল মানবীয় অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া, এমনকি শরীরের ব্যাপারটাও এই ধরনের ভালোবাসা থেকে পৃথক করা যায় না। ভালোবাসা বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমন: নিষ্কাম ভালোবাসা, ধর্মীয় ভালোবাসা, আত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা,বাড়িতে কোনো পোষ্য প্রাণীর বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত স্নেহ প্রায় সময় খুবই আনন্দদায়ক হতে পারে এমন কি কোনো কাজ কিংবা খাদ্যের প্রতিও,আর এই অতি আনন্দদায়ক অনুভূতিই হলো ভালোবাসা।

ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বিশেষ কোন দিনের বা দিবসের প্রয়োজন হয় না। ভালোবাসার বিশেষ কোন রং নেই … প্রকৃত ভালোবাসার মানুষের কাছে প্রতিটি দিনই ভালোবাসার।
তবে এইটা সত্য যে ভালোবাসা প্রকৃতির (অর্থাৎ বিশেষ ঋতু যেমন বসন্ত ) উপর নির্ভর করে, অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এই সময়টাতে ভালোবাসার মানুষকে কাছে পাবার অনুভূতি অনেক বেশি প্রকাশ পায় …
কারণ বসন্তের রঙে প্রেম সবসময়ই আরও রঙিন হয়েছে। বসন্ত কখনোই বিরহ হয়ে দেখা দেয়নি প্রেমে বরং মানব মনে বসন্ত প্রেমে পুষ্টি জুগিয়েছে আদি থেকে। প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে বসন্তের রঙে প্রেমকে অনুভব করে নতুন করে …

“ ভালবাসা মানে কাউকে জয় করা নয় বরং নিজেই কারো জন্য হেরে যাওয়া। এটা জ্ঞানের গভীরতা দিয়ে হয়না, হয় হৃদয় এর পবিত্রতা দিয়ে !!! পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত এবং আলোচিত শব্দ “ভালবাসা”। এই ভালোবাসা কখনও কাঁদায়, কখন হাসায়, কেউ এর জন্য আত্মবিসর্জন দেয়। মানুষ কত ত্যাগ স্বীকার করে ভালোবাসার মানুষকে পাবার জন্য। আবার এই ভালবাসার জন্য মূল্যবান অনেক কিছুই হারায় যার জন্য বিন্দুমাত্র আফসোস ও কখনো হয় না,
আসলে আমাদের মানব মন খুব ই অস্থির এক জিনিস সে যে কি চাই সে আসলে নিজেও জানে না।
আবার সব কিছু জেনে শুনেও এই মন ভুল পথে পা বাড়ায় ………।
বিবেক তখন তাকে অজস্র বার নিষেধ করে …………।।
এই বিবেক ও মনের যুদ্ধে … সব সময় মনেরই জয় হয় ।আর তখনি একজন মানুষ ভালবাসা অনুভব করতে পারে এবং ভালোবাসার মূল্য দিতে পারে …
আর এই জন্যেই পৃথিবী এত সুন্দর …।
না হলে তো পৃথিবীর সব মানুষ রোবট হয়ে যেত …..

ভালোবাসা মানে পরস্পরকে বুঝতে পারা। আমি যে মানুষটিকে ভালোবাসব তাকে যদি না বুঝতে পারি তাহলে এই প্রেমের কোনো অর্থ আছে বলে মনে হয় না।
মুখে মুখে সবসময় ভালোবাসি ভালোবাসি বলার চেয়ে আমার মনে হয় ভালোবাসার মানুষটাকে বুঝতে পারা অনেক বড় ব্যাপার।
ভালোবাসা বেঁচে বা টিকে থাকে পরস্পরের বিশ্বাসে। যে প্রেমে বিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয় সেখানে হয়ত প্রেম থাকে না, থাকে সামাজিকতাকে রক্ষা।
যে কাউকেই ভালোবাসা যায়। ভালোবাসা অনেক পবিত্র একটি অনুভূতি। স্বার্থসিদ্ধির জন্যও প্রেম করা উচিত নয়। প্রেম হচ্ছে পৃথিবীর মধুরতম সম্পর্ক যেখানে থাকবে না কোনো চাওয়া-পাওয়া, থাকবে না কোনো স্বার্থ, থাকবে শুধুই ভালোবাসা।

নিজে অসুখী হয়ে অন্যকে ভালোবেসে সুখী করা যায়না। কেউ আপনার জীবনে সুখ এনে দেবে ভেবে কারো সাথে প্রেমে জড়াবেন না। বরং আপনি কারো জীবনে সুখ এনে দেবেন ভেবে প্রেম করুন।
ভালোবাসা দেওয়ার জিনিস, নেওয়ার জিনিস নয়। আপনি যদি ভালোবাসা দেওয়ার চেয়ে ভালোবাসা পাওয়াতে বেশি সুখ পান, তাহলে আপনি এখনো ভালোবাসার গভীরে যেতে পারেননি। গভীর ভালোবেসে যে সুখ পাওয়া যায় তার সাথে প্রায় অন্য কোনো সুখের তুলনা চলেনা!
ভালোবাসার সাথে প্রত্যাশার (expectation) কোনো সম্পর্ক নাই। সত্যিকারের ভালোবাসা শুধু ভালোবাসার মানুষটিকে সুখী করতে চায়, তার থেকে কোনো প্রতিদান আশা করে না। প্রত্যাশার চাপ আস্তে আস্তে ভালোবাসাকে মেরে ফেলে। আপনার ভালোবাসার মানুষটি আপনার প্রত্যাশা পূরণের মেশিন নয়।
সত্যিকারের ভালোবাসা মানুষকে মুক্ত করে, বেঁধে ফেলে না। ভালোবাসা আফিমের মতো, লোহার শিকল নয়। আপনার ভালোবাসার মানুষ খুব সম্ভবত আপনার কাছে ফিরে আসবে যদি আপনি তাকে মুক্ত করে দেন। লোহার শিকল দিয়ে ভালোবাসার মানুষকে আটকে রাখার চেষ্টা করলে পাখি খাঁচা ভেঙ্গে উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। শেকল পরানোর চেয়ে পাখিকে ভালোবাসার আফিম খাওয়ান বরং।

ভালোবাসাকে শুধু বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের মধ্যেকার সম্পর্ক মনে করে ‘ভালোবাসা’ নামক পবিত্র নামটাকে অপমানিত করবেন না। ভালোবাসার পরিধি মহাবিশ্বের মতোই বিশাল। ‘ভালোবাসা’ নামক বস্তুটিতে যতটা আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়, তা আর অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। আর এই আত্মতৃপ্তির পরিপূর্ণ স্বাদ আপনি তখনই পাবেন, যখন এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও তার সৃষ্টিকে আপনি নিঃস্বার্থভাবে মনঃপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসতে পারবেন।

তাই সরকার আবুল হোসেন তার চিন্তা থেকে তার অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, ভলোবাসার একটি নির্দিষ্ট দিবস ঘোষনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হওয়ার মাধ্যমেই সত্যিকারের ভালোবাসার প্রয়োগ ঘটানো সম্ভব।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'