জামিনে এসেও বেপরোয়া যুবলীগ নেতা মামুন, থানায় অভিযোগ

বিষয়টি সরিষাবাড়ী উপজেলা যুবলীগের জন্য দুঃখজনক, অভিযোগ পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানালেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক

ছবিঃ অভিযুক্ত শাহীন এবং মামুন

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মাদক সহ গ্রেফতারকৃত সরিষাবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন (পিতাঃ আইন উদ্দিন মাস্টার) জামিনে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার রাতে মাদক সেবী আব্দুল্লাহ আল মামুন’কে মাদক সহ উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সরিষাবাড়ী-কেন্দুয়া সড়ক হতে তার আরও দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ। কিন্তু তার কিছুদিন পর জেল হতে জামিনে এসে সে আগের তুলনায় আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠে। গড়ে তুলে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। যার দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি এবং তার আরেক সহযোগী শাহীন। এই সংঘবদ্ধ চক্রের রোষানলে দীর্ঘদিন ধরেই অতিষ্ঠ এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র, ছাত্রীরা মাদক সেবী মামুন, শাহীন ও তাদের সংঘবদ্ধ চক্রের অসদাচরণের জন্য সর্বদায় ভীতিতে থাকে। কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের ভয়ে কিছু বলতে সাহস পায়না।

তাদের বৈরীতায় অতিষ্ঠ হয়ে মামুন এবং তার সহযোগী শাহীন আলমকে (পিতাঃ জালাল উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য ও ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি) বিবাদী করে সরিষাবাড়ী থানায় বাদী হয়ে আজ শনিবার (১২.০২.২০২১) সকালে হারুন-অর রশিদ নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা-যায়। বাদী হারুন অর রশিদ চাপারকোনা গ্রামের মোঃ আব্দুল কাদের মন্ডলের ছেলে।

তার (হারুন) অভিযোগ বিবাদীরা মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করে এবং মাদক সেবন করে। তারা মাঝে মধ্যে আমার কাছে টাকা দাবি করতো। ওদের দেখে সবসময় ভয়ভীতিতে থাকি এই জন্য মাঝে মধ্যে আমি তাদেরকে ৫০/১০০ টাকা দিয়েছি। এমতাবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (১১.০২.২০২১) সন্ধ্যায় তারা আমার কাছে আগের চেয়েও বেশী মাত্রায় টাকা দাবি করলে, যা আমি দিতে অস্বীকৃতি জানায় অতঃপর মামুনের দল আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানের ঝাপের লাঠি দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করে এবং কিভাবে আমি চাপারকোনায় ব্যবসা করি তা দেখে নেবে এবং প্রাননাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

তাছাড়াও তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, একই দিনে মোঃ শাজাহান আলী, জনৈক শ্রী ঠাকুর, জনৈক কুদ্দুস মিয়াকেও মারপিট করে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়ের তুখোর ছাত্রলীগ নেতা শ্রী সুমন রবিদাসের বাড়ীতে প্রবেশ করে তার ছোট বোনকে ধর্ষণ করবে বলে হুমকি দিয়েছে বলেও জানা-গেছে। ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার পরও তার (শ্রী সুমন রবিদাস) পরিবার এদের দ্বারা বার বার নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুনের মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

অতঃপর অভিযুক্ত শাহীন আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,’মারামারি হয়েছে সেটা আমি জানি তবে ঘটনাস্থলে আমি উপস্থিত ছিলাম না’।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রনি ভিপির নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,’ বিষয়টা আমি জানি না, এমন ঘটনা যদি সত্যি ঘটে থাকে তবে যুবলীগের জন্য অবশ্যই দুঃখজনক, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবো’।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল করিমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু উপর উল্লেখিত মামলায় তারা জামিনে আছে সে মতে এবিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে পূণরায় অভিযোগ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'