বিজয়ের মাসে চোখ হারালেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক

গুলিবিদ্ধ আল মামুনের ডানচোখে ১৮ ডিসেম্বর ২০২০ প্রথম অস্ত্রপচার করে ২টি স্প্রিন্টার বের করা হয়, কিন্তু অপারেশন শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান মামুনের কর্ণিয়াসহ ডান চোখ চিরতরে ড্যামেজ হয়ে গেছে

মঙ্গলবার রাতে (১৫ ডিসেম্বর ২০২০ ইং) জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সারকারখানার গেইট পারস্থ স্থানে বিজয় দিবস পালন ও শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থপতির (বঙ্গবন্ধু) আদর্শে নেই বরং আওয়ামীলীগের দাবিদারে থাকা কিছু অসংবেদনশীল বৈরী লোকজন এই মহান দিবসে গোলাগুলি, দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের সময় প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সংঘর্ষ চলাকালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের ডান চোখে গুলিবিদ্ধ হয়।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে আব্দুল্লাহ আল মামুন’কে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়, পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা বেগতিক দেখে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনিষ্টিটিউট হাসপাতাল, শ্যামলী, ঢাকায় (কেবিন-৬১৯ নাম্বার) নেয়ার পরামর্শ দেন।

জানা যায়, গুলিবিদ্ধ আল মামুনের ডানচোখে ১৮ ডিসেম্বর ২০২০ প্রথম অস্ত্রপচার করে ২টি স্প্রিন্টার বের করা হয়, কিন্তু অপারেশন শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান মামুনের কর্ণিয়াসহ ডান চোখ চিরতরে ড্যামেজ হয়ে গেছে, আর ১টি গুলি চোখের ভিতরের হাড় ভেঙে ব্রেইনের মাঝখানে বর্তমানে অবস্থান করছে। এরপর গত শনিবার (১৯ ডিসেম্বর,২০২০) জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে জাতীয় নিউরোসাইন্স ইনিস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার্ড করা হয় এবং বর্তমানে তিনি জরুরী বিভাগের ৬ নাম্বার বেডে ভর্তি আছে।

এদিকে যে দিবসটির জন্য ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানী বাহিনীর প্রায় ৯১,৬৩৪ সদস্য বাংলাদেশ ও ভারতের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর ফলে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে আর এমন একটি মহান দিবসে এরকম একটি ঘটনাকে নৃশংস বলে দাবি সহ দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তার আত্মীয় স্বজন।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'