সরিষাবাড়ীতে আশায় গ্রাহকদের জোরপূর্বক ঋণ প্রদান, অন্যথায় সদস্য বাতিল

তাই ঋণের বাড়তি চাপ সংসারে এক নতুন অশান্তির সূচনা করছে বলেও জানা যায়

আশা একটি বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান (Association for Social Advancement) ১৯৭৮ সালে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কালের বিবর্তনে যেমন সবকিছুর পরিবর্তন হয় তেমনি আশারও ঋণ পরিচালনা কার্যক্রমে এসেছে আমূল পরিবর্তন। ঋণ দেওয়ার নাম করে তারা গরীব, অসহায় মানুষদের বিপদে ফেলছে জোরপূর্বক ভাবে অনেককেই চাপিয়ে দিচ্ছে মোটা অঙ্কের ঋণ যা নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করতে অনেককেই হিমসিম খেতে হচ্ছে তাই ঋণ নিয়ে কম আয়ের মানুষদের সংসারে চলে একধরনের অশান্তি। আশাতে ক্ষুদ্র ঋণ,পুর্নবাসন ঋণ,সুদ বিহীন ঋণ থাকলেও তারা গ্রাহকদের এগুলোর কোনটিই না দিয়ে সুদ সম্পর্কিত মোটা অঙ্কের ঋণ তাদের সুবিধা মতো গ্রাহকদের চাপিয়ে দেয় বলা হয় ঋণ না নিলে ভেঙে দেওয়া হবে আপনার ডিপিএস ও সঞ্চয় তাই এক রকম বাধ্য হয়েই অনেকেই ঋণ নিচ্ছে

জানা যায়, সরিষাবাড়ি উপজেলার বয়ড়া বাজার আশা শাখা অফিসের সদস্য মোছাঃ ফরিদা খাতুন, তিনি ২০১২ সালে আশায় মাসিকভাবে ৫০০ টাকাহারে ১০ বছর মেয়াদি একটি ডিপিএস করেন, ডিপিএস করাকালীন তার সাথে এরকম কোন চুক্তি হয়নি যে তাকে ঋণ নিতে হবে তারপরও তাকে বিভিন্ন সময়ে ঋণ চাপিয়ে দেওয়া হয় আর ঋণ না নিলে তার ডিপিএস ভেঙ্গে দেওয়া হবে বলে তাকে জানানো হয় তাই সে বাধ্য হয়ে ২০,০০০ টাকা ঋণ চাইলেও তাকে জোরপূর্বক ৪০,০০০টাকা ঋণ প্রদান করা হয়, এই টাকায় প্রতি সপ্তাহে তাকে ৮০০ টাকা ঋণের কিস্তি ও ৫০০ টাকা ডিপিএস সহ গুনতে হবে ১৩০০ টাকা।ফরিদা বেগমের স্বামী একজন দিনমজুর করোনা ও সাম্প্রতিক সময়ের বন্যার কারনে নিম্ন আয়ের মানুষের ন্যায় তারও কোন আয়ের উৎস না থাকায় ঋণের বাড়তি চাপ তার সংসারে এক নতুন অশান্তির সূচনা।

ঋণের ব্যাপারে বয়ড়া বাজার শাখার ফিল্ড অফিসার নাম না বলতে ইচ্ছুক একজনের সাথে কথা বললে সে জানায় ম্যানাজারের চাপেই তারা গ্রাহকদের ঋণ নিতে বাধ্য করে এখানে তাদের করার কিছুই নেই। ভুক্তভোগী ফরিদা বেগম বলেন, এভাবে অসহায় মানুষদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের ঋণের চাপে ফেলে হয়রানি করা একধরনের অন্যায় তাই তিনি জানান এ ধরনের অন্যায়ের কারনে অনেক অসহায় মানুষদের সংসার ভেঙ্গে যায় তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মোঃ শামসুল হকের নিকট জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদেরতো গ্রাহকের সংখ্যা অনেক, তাই যারা পুরাতন গ্রাহক তাদেরকে চাপ প্রয়োগ করে নয় এমনিতেই ঋণ নেয়ার ব্যাপারেে আমরা মাঠ পর্যায়ে উদ্বুদ্ধ করে থাকি। তবে কেউ ঋণ নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের জোর করা হয় না, তাদের সদস্য পদও বাতিল হয় না’।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'