মাদারগঞ্জে প্রেমকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট

এদিকে চেয়ারম্যানের ভয়ে আতঙ্কে রয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার

ফুফু ভাতিজার প্রেম কেন্দ্র’কে করে গ্রাম্য শালিসিতে প্রেমিকের পরিবারকে এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দিলেন এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান।উক্ত ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরে মাদারগঞ্জ ৭নং সিদুলী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের হাটবাড়ী মধ্যপাড়া গ্রামে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে জয়নাল হোসেন গেন্দা’র ইন্টারমিডিয়েট ২য় বর্ষে পড়ুয়া মেয়ে শ্যামলী আক্তার(২০) নানীর বাড়ী কথা বলে বাড়ী থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু কয়েক ঘন্টা পর শ্যামলীর মা তার বাপের বাড়ী ফোন দিয়ে জানতে পারেন শ্যামলী সেখানে যায়নি। তখন শ্যামলীর পরিবার আতঙ্কিত হয়ে তাদের বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়ীতে খোঁজ নিতে থাকেন কিন্তু কোথাও শ্যামলীকে পাওয়া যায়না। ইতিমধ্যে খবর আসে শ্যামলী একই গ্রামের মোঃ তিল্লালের ছেলে শরিফ (৩০) এর সাথে পালিয়ে গেছে। কথাটি শুনে শ্যামলীর মা হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলে তৎক্ষণাৎ ঘটনাটি এলাকার মধ্যে রটে যায়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের একই বংশের ছেলেমেয়ে শরিফ ও শ্যামলী। তাঁরা একে অপরে ফুফু ভাতিজা সম্পর্কে। কিন্তু তাদের এই প্রেমের সম্পর্ক দুই পরিবারের কেউ কখনো ঘুণাক্ষরেও টের পাননি বলে জানান শরিফের জেঠা বিল্লাল হোসেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রেমিক শরিফ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফেল করে আর পড়ালেখা করেনি। বাবার সংসারে মন না দিয়ে উড়তি বয়সের ছেলেদের মত ফুর্তি করে বেড়ায় এলাকায় এবং ইতিপূর্বেও শরিফ আরেকটি বিয়ে করে ছিল বলে জানান শ্যামলীর চাচী। এদিকে শ্যামলীর বাবা উক্ত বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যান মাহবুুবুর আলম মিরনকে জানালে তিনি বিচারের ভার নেন এবং গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০ টায় এলাকায় বিচার বসলে সেখানে চেয়ারম্যান নির্দেশ দেন ছেলের বাড়ীঘর ভাংচুর করে এলাকা হতে তাড়িয়ে দিতে। চেয়ারম্যানের এমন নির্দেশ পেয়ে এলাকার কিছু কুচক্রী মহল স্বার্থান্বেষী পাতি নেতা হামলা করে শরিফদের বাড়ীতে। শরিফের ষাটোর্ধ বৃদ্ধা দাদী জানান চেয়ারম্যানের হুকুমে আমার ছেলের বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে নিয়ে গেছে হুমায়ূন, বদি, ছানোয়ার, সুজা ও খোকার লোকজন। শুধু তাই নয়, শালিসির মধ্যে শরিফের বাবাকে না পেয়ে, শরিফের মাকে অমানবিক নির্যাতন করে প্রখর রোদ্দুর মধ্যে কয়েক ঘন্টা বেঁধে রেখে ছিল চেয়ারম্যান। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সে গুরুতর অসুস্থ হয়েও স্বামী সন্তান নিয়ে চেয়ারম্যানের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রাম ছেড়ে। অপরদিকে শরিফের চাচা এলাহি জানান শ্যামলী ও শরিফের প্রেমের ব্যাপারে তাঁরা কিছুই জানেন না। তবুও চেয়ারম্যান তাদের সাথে অমানবিক আচরণ সহ পুলিশ দিয়ে হুমকি ও হয়রানি করছেন প্রতিদিন। চেয়ারম্যান যদি বিচারক হয়ে নিজেই জুলুম নিপীড়ন চালান এইভাবে তাহলে গ্রামের অসহায় সাধারণ মানুষগুলো কার কাছে যাবে। তার এমন কথার সত্যতা খোঁজতে গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যানের রায়ের উপর কারো কোন সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তিনি যেটা রায় দিবেন সেটিই আদালত।

এবিষয়ে চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে ইউপি পরিষদ তথা মুঠোফোনেও পাওয়া যায়নি। শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী পুলিশ তথ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত অফিসার শফিকুল আলম বলেন অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'