গাড়ির নাম্বার প্লেটে বর্ণ মালার রহস্য কি ? কে এর প্রবর্তক? কত সালে এর ব্যবহার শুরু

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জরাজীর্ণ এই দেশটিকে পরিমার্জিত রূপে সাজাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অবিস্মরনীয়। জানা যায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন সৃজনশীল স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষ। তাঁর স্বপ্ন ছিল বর্হির বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর প্রতিরূপ সৃষ্টি করবেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত মাতৃভূমি তাঁর সোনার বাংলায়। তাই তিনি অতি অল্পসময়ের মধ্যে অঙ্কিত করে ছিলেন একটি উন্নত দেশের চিত্রাঙ্কন। যে চিত্রাঙ্কনের প্রতিচ্ছবি আজও বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে দৃশ্যমান।

বঙ্গবন্ধু জ্ঞাত ছিলেন, দেশ উন্নত করতে হলে সর্বপ্রথম তাকে প্রণয়ন করতে হবে এদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার সমীকরণ। ঠিক তাই তিনি করে ছিলেন। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য অমিত্ররা তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করলো তাঁর পরিবারসহ (১৫ আগস্ট)। আজ বঙ্গবন্ধু নেই, তবুও আছে তাঁর সেই সুচিন্তিত পরিকল্পনার বাস্তবায়নের ফলশ্রুতি,যেটা আমরা সানন্দে উপভোগ করছি। আজ সেই উপভোগকৃত কিছু প্রণীত তত্ত্বের মধ্যে থেকে একটি সূত্রের কিছু তথ্য আপনাদের কে জানাবো। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন (বিআরটিএ) সংস্থাটি ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুপ্রসন্ন চিন্তা-চেতনার আলোকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তখন থেকেই (বিআরটিএ) এর অনুমোদিত সকল যানবাহনের নাম্বার প্লেট ব্যবহারের নিয়ম চালু হয়। আর এসব যানবাহনগুলোর নাম্বার প্লেটের বিভক্তি হয় তিন ভাগে – শহরের নাম, গাড়ির ক্যাটাগরি ক্রম এবং গাড়ির নাম্বার। যেমন ধরুন- ঢাকা মেট্রো য- ১১২৫৯৯।

এখানে ঢাকা মেট্রো দ্বারা বুঝানো হয়েছে, গাড়িটি ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আওতাধীন। ‘য’ হচ্ছে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গাড়ির চিহ্নিতকারী বর্ণ। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন সব গাড়ি ‘য’ বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা বুঝায়। পরবর্তী ১১ হচ্ছে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার এবং ‘২৫৯৯’ হচ্ছে গাড়ির সিরিয়াল নাম্বার। যে কোনো গাড়ির পেছনে সামনে লক্ষ্য করলে দেখা যায় সাধারণত বাংলা বর্নমালার একটি করে অক্ষরগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু কেন হয়েছে, সেটা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। আজ জেনে নিবো প্রতিটি বর্ণ মালা আলাদা আলাদা গাড়ির কি পরিচয় বহন করে। যেমন – 

ক – ৮০০ সিসি প্রাইভেটকার
খ – ১০০০-১৩০০ সিসি প্রাইভেটকার
গ – ১৫০০-১৮০০ সিসি প্রাইভেটকার
ঘ–জীপগাড়ী
চ–মাইক্রোবাস
ছ–মাইক্রোবাস/লেগুনা (ভাড়ায় চালিত)
জ–বাস (মিনি)
ঝ–বাস (কোস্টার)
ট- ট্রাক (বড়)
ঠ–ডাবল কেবিন পিকআপ
ড– ট্রাক (মাঝারী)
ন–পিকআপ (ছোট)
প–ট্যাক্সি ক্যাব
ভ–২০০০+ সিসি প্রাইভেটকার
ম–পিকআপ (ডেলিভারী)
দ–সি এন জি (প্রাইভেট)
থ–সিএনজি(ভাড়ায় চালিত)
হ–৮০-১২৫ সিসি মোটরবাইক
ল–১৩৫-২০০ সিসি মোটরবাইক
ই–ট্রাক (ভটভটি)।

 

√উপরোক্ত তথ্যাদি জনস্বার্থে বাংলাদেশ পুলিশ ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহীত করে নিউজটি করা হয়েছে।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'