সরিষাবাড়ীতে কোরবানি পশু জবাই করাকে কেন্দ্র করে মারামারি, বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ঈদুল আযহা ঈদের দিনে কোরবানি পশু জবাই করাকে কেন্দ্র করে মারামারি, বাড়িঘর ভাংচুর সহ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

সরিষাবাড়ী পৌরসভার আওতাধীন ৮নং ওয়ার্ডের বাউসি উত্তরপাড়া গ্রামের আসাদ ফকিরের ছেলে গোলাম রোহানী জামিলের সাথে এই ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার সূত্রে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঈদুল আযহা ঈদের দিন শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঈদের নামাজ শেষে সকলেই পশু কোরবানি দিচ্ছিলেন। এমন সময় বাউসি উত্তরপাড়া আসাদ ফকিরের ছেলে জামিল এসে সমাজ কমিটির সভাপতি হাজী রফিকুল ইসলাম রফিক কে অভিযোগ করেন। তারা দীর্ঘ সময় ধরে কোরবানীর পশু নিয়ে বসে আছেন কিন্তু ইমাম যাচ্ছে না। কেন ইমাম যাচ্ছে না, তাই তিনি জানতে চান। এমন প্রশ্নের জবাবে একই গ্রামে আব্দুর রশিদের ছেলে খসরু কটাক্ষ করে বলেন ইমাম তোমাদের ওখানে যাবে না। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু হলে সিরাজ ও দুলালসহ উত্তেজিত হয়ে একপর্যায়ে তিনজনেই মারতে আসেন জামিলকে। তখন উপস্থিত মুরুব্বীয়ান উক্ত বিষয়টি তৎক্ষণাৎ মীমাংসা করে দেন এবং এসব ভুলে যেতে বলেন। কিন্তু দুলাল, সিরাজ ও খসরু কথা কাটাকাটি তিক্ততা মনের মধ্যে পুষে রেখে তাদের দলবল নিয়ে সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় হামলা করেন জামিলের বাড়িতে। এসময় ঘরে থাকা শিশুদের সহ জামিল ও তার স্ত্রী ফাতেমা এবং বৃদ্ধ বাবা আসাদ ফকিরকে মারধর করেন খসরু গং বলে জানান জামিলের পরিবার।

জানা গেছে, উক্ত ঘটনায় নগদ পাঁচ লাখ টাকাসহ ১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে সশস্ত্র হামলাকারীরা। অপরদিকে জামিলের বৃদ্ধ বাবা আসাদ ফকির চোখের কোনে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে কাঁদোকাঁদো কন্ঠে বলেন, আমার এক’শ বছরের উপরে বয়স কিন্তু কোনদিন, কখনো এমন অমানবিক কান্ড দেখিনি যে, মানুষের একমাত্র নিরাপৎ আশ্রয়স্থল বাসগৃহে হামলা করে মানুষ। এদিকে নিরাপত্তাহীনতায় থাকা জামিলের পরিবার জানান, মামুন,জনি, রনি, সাঈম ও বাঁধন এরা অত্রাঞ্চলে ত্রাস। তাদের ডরে কেউ কিছু বলে না।কিন্তু এবারের ঘটনায় এলাকার মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং এলাকার নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উক্ত বিষয়টিকে সামাজিকভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা যায়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ভুক্তভোগী জামিল জানান, আমি দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার পরিবারের উপর যে বর্বরোচিত হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটতরাজের মত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের যথাযোগ্য শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মোঃ ফজলুল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'