গরুর চামড়া হারাম নয়, এটা দিয়েও তৈরী হয় সুস্বাদু খাবার

মুসলিম উম্মাহ’র ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল-আযহা। ঈদুল ফিতর পালিত হয় মাহে রমজানের ধর্মীয় সংযম অর্থাৎ আত্মশুদ্ধির মধ্যদিয়ে এবং ঈদুল-আযহা পালিত হয় পবিত্র হজ্জ্ব ও হালাল পশু কোরবানির মাধ্যমে।

আমরা সকলেই জানি ধর্মীয় অনুষ্ঠান মানেই অনাবিল আনন্দ সুখ শান্তির অপার মিলন মেলা। যে মেলায় একে অপরের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ন আত্মিক সম্পর্ক সৃষ্টি করবে এবং ভুলে যাবে মনের কোণে লুকায়িত অতীতের হিংসা ঘৃণা ক্রোধ এবং ধনী গরীবের চিরন্তন বৈষম্য। আসছে তেমনি একটি পবিত্র দিন,ঈদুল-আযহা তথা কোরবানি ঈদ। আর এ ঈদে মহান আল্লাহতালার সন্তুষ্টি লাভের জন্য মুসলিম উম্মাহ’র ধনী-গরীব সকলেই চেষ্টা করি তার তরে উৎসর্গ করতে ছোটবড় হালাল পশু । কিন্তু এই হালাল পশুর প্রবাহিত রক্ত, নর প্রাণীর পুং লিঙ্গ, অণ্ডকোষ, মাদী প্রাণীর স্ত্রী লিঙ্গ, মাংসগ্রন্থি, মূত্রথলি ও পিত্ত খাওয়া হারাম। হালাল শুধু মাংস ও চামড়া। কিন্তু আমরা কি করি চামড়াকে সস্তায় বেচে দেই। না হয় ফেলে দেই। তাতে করে লাভ বইকি ক্ষতি হচ্ছে বেশি। কেননা মাংসের পরিতৃপ্তি ও পুষ্টিগুণও এখান থেকে পাওয়া যেতে পারে। তাই আজ থেকে চামড়া সস্তায় বিক্রি না করে বা ফেলে না দিয়ে। খাওয়ার অভ্যাস করি। কিন্তু কিভাবে রান্না করবেন এই চামড়া।

চলুন জেনে নিই তার রন্ধন প্রণালী বা রেসিপি। প্রথমেই চামড়া এক থেকে দেড় ফিট সাইজের ছোট ছোট টুকরা করে নিতে হবে। এরপর ৩০মিনিট গরম পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। এরপর মেঝেতে কোনো কিছুর উপর রেখে চামড়ার উপরের অংশে গরম পানি ঢেলে সাথে সাথে স্ট্রিলের চামচ দিয়ে আঁচড় দিলে উপরের পশমগুলো উঠে যাবে। লোম উঠে যাবার পর চামড়ার নিচের অংশ পরিষ্কার করে ছোট ছোট টুকরা করতে হবে। ভালোভাবে ধুয়ে গরম পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। সিদ্ধ হলে, প্রয়োজনীয় মশলা দিয়ে গোশতের মত করে রান্না করতে হয়। আমাদের মনে রাখতে হবে একটি চামড়ায় ১০ থেকে ১৫ কেজি কিংবা এর থেকে বেশি পরিমাণ গোশত পাওয়া যায়। এছাড়া চামড়া দিয়ে হালিম, চটপটি ইত্যাদি রান্না করলেও তা মজাদার হয়। আর গরম চামড়া দিয়ে ভাত ও রুটি খাওয়া আরো মজাদার। যারা চামড়া খান, তাদের বক্তব্য হলো, একেক পশুর চামড়ার একের রকম স্বাদ। আফ্রিকার অনেক রাষ্ট্রে গরুর চামড়া দিয়ে অনেক স্পেশাল আইটেম রান্না করা হয়, সেগুলো দেশ-বিদেশে প্রসিদ্ধ। আমরা জানি আমাদের দেশে গরু-ছাগলের বট খাওয়ার ব্যাপক প্রচলন আছে।

ঠিক তেমনি বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা প্রভৃতি এলাকায় গরুর মাথার চামড়া রান্না করে খাওয়ার প্রচলন আছে বলে জানা যায়। এছাড়া বহির্বিশ্বে আফ্রিকা, মালয়েশিয়া- ইন্দোনেশিয়াতে পশুর চামড়া খাওয়ার প্রচলন আছে বলেও জানা গেছে। সর্বোপরি কথা হলো ইসলামের দৃষ্টিতে যেহেতু গরু-ছাগলের চামড়া খাওয়া হালাল। সেহেতু নির্দ্বিধায় আমরা পশুর চামড়া খাওয়া অভ্যাস বা আত্মস্থ গড়ে তুলতে পারি। আর এতে করে জনগন কুরবানীর পশুর ন্যায্য মূল্য পাবে এবং দেশের চামড়া শিল্পের সাথে জড়িত থাকা ট্যানারী জগৎতের স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেট গডফাদারদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাবে মনে হয়। তাই আসুন দেশের একটি সম্পদ নষ্ট হওয়ার হাত থেকে দেশকে বাঁচাই।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'