সরিষাবাড়ীতে ইউপি মেম্বার নজরুলের আর্তনাদ কিভাবে চলবে তার সংসার

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৮ নং মহাদান ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম জনগণের সেবা করতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে খোয়ালেন তার একমাত্র রুজি-রোজগারের মাধ্যম অটোরিকশাটি।

জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে তারই নির্বাচনী এলাকা মাটিয়াজানি গ্রামে। গত ২২ জুলাই বুধবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে নজরুল মেম্বার তার নিজেস্ব অটোরিকশা নিয়ে মাটিয়া জানি গ্রামে যান দুস্থ ও অতিদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণের বরাদ্দকৃত ভিজিএফ (বন্যা) কার্ড বিতরণ করতে। যথারীতি তিনি রাস্তার পাশে অটোরিকশাটি দাঁড় করিয়ে রেখে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলছিলেন এবং ভিজিএফ ত্রাণের কার্ড বিতরণ করছিলেন বাড়ীবাড়ী। এমন সময় হঠাৎ বিকট আওয়াজে শব্দ শুনতে পান এবং গাড়ীর দিকে তাকিয়ে দেখেন গাড়িটি যথাস্থানে নেই। তখন তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখেন তার অটোরিক্সাটি গাছের সাথে এক্সিডেন্ট করে দিয়েছে ওই গ্রামের হারুন মিয়ার সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে রায়হান। এমন পরিস্থিতি দেখে নজরুল মেম্বার অবাক হয়ে যান এবং শিশুটি সামান্য আঘাত পেলেও তার প্রতি সমবেদনা জানান। কিন্তু তার যে অটোরিক্সার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুনরায় ঠিক করার মতো অর্থ তার কাছে নেই। তবুও তিনি জরিমানা না নিয়ে নিঃশব্দে অটোরিকশাটি নিয়ে বাড়ী চলে আসেন। অটোরিকশার এমন পরিস্থিতি দেখে তার স্ত্রী কান্না শুরু করেন। কেননা তাদের পরিবারে একমাত্র উপার্জনের মাধ্যমই হচ্ছে এই অটোরিকশাটি।এদিকে নজরুল মেম্বার জানান অটোরিকশাটি ঠিক করতে প্রায় ৩২ হাজার টাকা লাগবে। এতো টাকা তিনি কোথায় পাবেন এই দিশেহারা নজরুল ইসলাম মিডিয়ার সামনে কেঁদে ফেলেন এবং আপসোস করে বলেন, আমি গরীব অসহায় হতদরিদ্র একজন মানুষ। আমার কোন অর্থ সম্পদ নেই। আছে শুধু সততা ও নৈতিকতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর মত একটি মন। যে মনের উদারতা দেখে সকলেই আমাকে ভালবেসে মেম্বার বানিয়েছে। তাই আজ তাদের ভালোবাসার মূল্য দিতে গিয়ে আমি ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু কাকে বলবো আমার মনের দুঃখ কষ্টের কথা। কে শুনবে আমার অসহায়ত্বের মানবিক আর্তনাদ। জানি শুনার মত কেউ নেই। তবুও আমার কোন দুঃখ নাই। আমি তো আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আমার বাড়ীভিটা ছাড়া কোন সম্পদ নেই। আমি দিন উপার্জন করে দিন খাই। আমার সংসারে চার-পাঁচজন খানেওয়ালা। তার উপরে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া খরচা। এ সবই চলতো এই অটোরিকশার উপার্জিত অর্থ দিয়ে বলে জানান নজরুল ইসলাম। কিন্তু আজ বড্ড দিশেহারা হয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলেন ঈদের সম্মুখে দু-চার টাকা ইনকাম করতাম। পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু শান্তিতে ঈদ করতাম। কিন্তু সেটাও আর হলো না। আমি সত্যিই দুর্ভাগা একজন মানুষ।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'