ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চায় সিরাজগঞ্জবাসী

এই দাবিতে এনায়েতপুরে নদীর মাঝে একাই দাঁড়িয়ে যান এক যুবক

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভারী বর্ষণে সিরাজগঞ্জের বিপর্যস্ত অবস্থা। এ বর্ষায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিরাজগঞ্জের নদী ভাঙ্গন উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীরা। আগাম এ বন্যায় ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া পাওয়া ত্রাণ নয়,নিরাপদ টেকসই বেড়িবাঁধ চাই। এ বন্যা নদী ভাঙ্গনসহ বেশ কিছু জায়গায় ব্রীজ, কালপার্টসহ, অনেক জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে রাস্তাঘাটসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ফলে আবাদী জমিতে পানি ঢুকে ফসল নষ্ট সহ বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে ভেঙ্গে যায় বসত ভিটে। এ বন্যায় পানিতে রাস্তাঘাট সহ হাট বাজারে, দোকানে মেঝের নিচ থেকে সরে গেছে মাটি, ভেসে গেছে দোকানের আসবাবপত্রসহ মালামাল।

গ্রামের চা বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নদী ভাঙ্গনের কারণে ১৬ বছরে বাপ-দাদার ভিটাবাড়ি তিনবার নদীতে ভেঙে গেছে । বিলীন হয়েছে ফসলী জমি। বর্তমানে বেড়িবাঁধের পাশে বাবার দেড় শতক জমিতে বসতঘর ও চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। মাত্র ২০-২৫ হাত দুরে ভাঙ্গন কবলিত বেড়িবাঁধ । এইটুকু সম্পত্তি নদীতে চলে গেলে ভূমিহীন হয়ে পড়তে হবে। এই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব। একে তো করোনা ভাইরাসের কারণে চা বিক্রি কম হচ্ছে। অন্যদিকে নদী ভাঙ্গনের কারণে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।
তিনি আরও বলেন, বর্ষায় পানি চলে যাওয়ার পর কি করবো, কোথায় যাবো, কিভাবে চলবে সংসার বুঝে উঠতে পারতাছি না।

একই এলাকার মাহবুব , সোহাগ হাওলাদার, ফুলমিয়া, হেমায়েত ফরাজীসহ আরও অনেকে বলেন, বেড়িবাঁধ, নদী ভাঙ্গনের ফলে আমাদের বাড়িঘর নিয়ে সরে আসতে হয়। এভাবে প্রায় সব পৈত্রিক সম্পত্তি হারিয়েছি।এবার বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের বসবাস আতঙ্কের মধ্যে। এখন আমাদের একটাই দাবি ত্রাণ চাই না, চাই নিরাপদ টেকসই বেড়িবাঁধ। তাহলে হয়তো জীবন ও জান মালের রক্ষা হবে।

এই ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করছে সিরাজগঞ্জের সাধারণ জনগণ।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'