সরিষাবাড়ীতে কবিরাজের ভুল চিকিৎসায় হাত হারাতে বসেছে ছোট্ট মায়েশা

যতদ্রুত সম্ভব হাতটি কেটে ফেলতে হবে বলে জানান চিকিৎসক

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কবিরাজের ভুল চিকিৎসায় চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীর হাত কেটে ফেলার উপক্রম হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর নাম মায়েশা আক্তার (১১)। সে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের এস.এ কিন্ডারগার্টেনের ছাত্রী এবং সে পোগলদিঘা ইউনিয়নের রামচন্দ্রখালি গ্রামের আব্দুল সাত্তারের মেয়ে। ভুক্তভোগী মায়েশা এখন ঢাকার একটি হাসপাতালের ডাক্তারের নিকট হতে ফেরত এসে হাত কাটার অপেক্ষায় নিজ বাড়ীতে যন্ত্রণার প্রহর গুনছে।

জানা যায়, গত রমজান মাসে খেলার সময় দরজা হতে পড়ে গিয়ে হাতে ব্যাথা পায়। এই সময় তাকে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় কবিরাজ মজুর কাছে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি তার হাতকে লতাপাতা দিয়ে বেঁধে দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন, কিন্তু কিছুতেই মায়েশার হাতের অবস্থা ভালোর দিকে না গেলে কবিরাজ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ডাক্তার তার অবস্থার বেগতিক দেখে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে তার বাম হাত কেটে ফেলার পরামর্শ প্রদান করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মায়েশার বড় বোন জানান, আমার বোন খেলতে গিয়ে দরজা হতে পড়ে গিয়ে হাতে ব্যাথা পেলে স্থানীয় পোগলদিঘা চরের মজু নামে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাই। সেখানে গেলে তিনি হাতে লতা-পাতা দিয়ে বেঁধে দেন। এর পর ওই হাতে পঁচন ধরলে তাকে ঢাকায় ডাঃ মাহবুব রহমানের নিকট নিয়ে যাই। কিন্তু চিকিৎসক আমার বোনের হাতের অবস্থা খারাপ দেখে তার বাম হাত অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে কেটে ফেলার পরামর্শ প্রদান করেন। কিন্তু টাকার অভাবে বোন এখন বাড়ীতেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তবে আমরা কারও সাহায্য সহযোগিতা চাই না, তবে কেউ যেনো আমাদের মতো এই ভুল আর না করেন সেই ব্যাপারেও সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ প্রদান করেন এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে।

এ ব্যাপারে কবিরাজ মজু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'