মাদকে সয়লাব কাজিপুরের যমুনা নদীর কিছু দূর্গম চরাঞ্চল , প্রতিরোধ জরুরি!!

সিরাজগঞ্জ জেলাধীন কাজিপুর উপজেলার বেশকিছু দূর্গম চরাঞ্চল বর্তমানে মাদকের অভয়ারণ্য। উঠতি বয়সের ছেলেরা বর্তমানে এই ভয়ানক নেশায় মেতে উঠেছে বলে জানা যায়। চারিদিকে নদী থাকায় প্রশাসনের নজরদারি ফাঁকি দিয়ে এই মরণনেশায় মেতে উঠেছে বলেও জানা যায়। এই বিষয়ে আজ নাটুয়ারপাড়া বসবাসরত মোঃ আলমগীর হোসেন নামক এক ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি হতে আজ রাত ৮.২৫ মিনিটে মাদকের বিরুদ্ধে এক স্ট্যাটাস দিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তার স্ট্যাটাসটিই হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘নিজের থুথু উপরের দিকে ছুড়ে দিলে তা নিজের উপরই এসে পড়ে’ – এই প্রবাদটি জানার পরেও আজ কিছু বলতে বাধ্য হচ্ছি।

আমার প্রিয় নাটুয়ারপাড়া,যেখানে আজো আমার স্বপ্নগুলো ডানা মেলে। যেখানে আমার প্রতিটি নিশ্বাস-প্রশ্বাস বাঁকে বাঁকে মিশে আছে। আজ এক অভিশাপ ভর করেছে আমার প্রিয় জন্মস্থানে। আজ নাটুয়ারপাড়া সহ চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের বাতাস ক্রমে ক্রমে বিষাক্ত হয়ে পড়ছে। মাদকের ভয়াল থাবা গ্রাস করে বেড়াচ্ছে চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়ন কে।

চরাঞ্চলের চিহ্নিত কিছু স্থানে প্রকাশে বিক্রি ও সেবন হচ্ছে মাদক। যারা মাদক দ্রব্য বিক্রি করছে তারা যেমন সমাজে বুক ফুলিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে আর যারা মাদক দ্রব্য কিনছে ও সেবন করছে তারাও কম কিসে। ধীরে ধীরে এসকল মাদক চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, স্কুল-কলেজ, পড়ুয়া ছাত্র সহ তরুণ সমাজ নিজেদেরকে মাদক দুনিয়ায় যুক্ত করে ফেলছে। কেননা, চরাঞ্চলের মাদক দ্রব্য হয়ে উঠেছে অত্যন্ত সহজলভ্য। চাইলেই আপনি পাচ্ছেন সকল ধরনের মাদক দ্রব্য। আজ এই মাদক চক্রগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এখনি যদি চক্রগুলোর দৌরত্ম বন্ধ করা না যায় তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম থুবড়ে পড়বে আস্তাকুঁড়ে।

মাদক চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সময় এখনই। এদেরকে প্রশ্রয় দিচ্ছি আমার, আপনার মতো লোকজনেরাই। কারো একার পক্ষে এটার সমাধান করা অসম্ভব। সমাজের সর্বস্তরের মানুষজনদের সাথে নিয়ে প্রশাসনকে এর সমাধান করতে হবে। তা না হলে মাদকের নিরাপদ অভয়ারণ্য হয়ে উঠবে আমাদের প্রাণের যমুনা পূর্ব ৬টি ইউনিয়ন। তাই প্রত্যেকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষকগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, পাশাপাশি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি প্রত্যেক বাবা-মার প্রতি, আপনারা আপনাদের সন্তানের প্রতি সোচ্চার হোন। আপনারা আপনাদের সন্তানের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেন। বেশী করে খোঁজ খবর নেন আপনার সন্তানের।

অনেক সময় দেখা যায়, অবাধ্য সন্তানের ভয়ে বাবা-মা কিছু বলেন না-তাতে করে বিপদ আরো বেশি হয়। অবাধ্য সন্তানকে বাধ্য করার চেষ্টা করুন তা না হলে আপনার এই অবাধ্য সন্তানকে প্রশাসনের কাছে তুলে দেন।

আপনার সন্তান রাতের আঁধারে কী করছে তা খোঁজ নেন দয়া করে।বর্তমান সমাজের সচেতন মহল গা ছাড়া ভাব দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়। আপনি ইচ্ছা ও অনিচ্ছাকৃতভাবে এসব না দেখার ভান করে পার করে দিবেন প্রতিদিন। তার বিনিময়ে ধ্বংস হচ্ছে আমাদের প্রজন্ম। তার দায়ভার আপনাদের উপরই বর্তায়।
আর নয় প্রতিবাদ, এবার হোক প্রতিরোধ। যে সকল এলাকায়, যে সকল স্থান মাদকের অভয়ারণ্য সেগুলোর আশ্রয়দাতা দের খুঁজে বের করুন। সমাজের যে সকল মানুষ এ চক্রের সাথে জড়িত তাদের কথা সকলেরই জানা। কিছু নীতি-আদর্শবিহীন, স্বার্থান্বেষীরা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে এদের নিজেদের দাপট টিকিয়ে রাখার জন্যে।

তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রইলো এখনি সময় সমাজের সচেতন মানুষদেরকে নিয়ে মাদকের বিরোধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জন্য। আর লক্ষ্য রাখতে হবে যারা মাদক নিয়ে চোরাকারবার করছে তারাই যেন মাদক নির্মূলের মিছিলে সামনে থেকে নেতৃত্ব না দেয়। মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়দাতাদের নির্মূল করেই শুরু হোক মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন।

সূত্রঃ মোঃআলমগীর হোসেন
নাটুয়ারপাড়া,কাজিপুর।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'