বেলকুচিতে লোডশেডিং এবং বাড়তি বিলে জনগণের ভোগান্তি

বাতাসে আম পড়ুক না পড়ুক বিদ্যুৎ পড়ে যায় সিরাজগঞ্জ জেলার জনবহুল বেলকুচি উপজেলায়! এ উপজেলা শিল্পাঞ্চল ও চরাঞ্চল সমন্বিত এলাকা হলেও লোডশেডিং এখানে এক নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার! সাথে বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের বিড়ম্বনা তো আছেই৷ ব্যাহত হচ্ছে সাভাবিক জীবনযাত্রা, ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার হচ্ছে ব্যাপক ক্ষতি। এলাকাবাসী দুর্ভোগের চরম পর্যায়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষের নেই কোন বিশেষ নজর।

উল্লেখ্য, করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ে বেলকুচির ৫০% পাওয়ারলুম বা শিল্পকারখানা গুলো বন্ধ আছে এবং সেচকাজও বন্ধ তারপরও কেনো নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না সেটা প্রশ্নবিদ্ধ।

কথিত আছে, বেলকুচি পল্লী বিদ্যুৎ যতটা না বিল নিয়ে সিরিয়াস ততটা সেবা প্রদানে সিরিয়াস নয়!
কোথায়, কখন, কিভাবে, কয়টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল দেওয়া যাবে এ বিষয়ে নিয়মিত সুস্পষ্ট বার্তা দিলেও কোন এলাকায় কতক্ষণ লোডশেডিং বা কোথায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কত সময় পরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল হবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না ।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া যায় বেলকুচির তামাই শিল্পাঞ্চল লাইনে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থেকে শুরু করে লোডশেডিং বেশি জনবহুল এই লাইনে ।
পরিতাপের বিষয়, পল্লী বিদ্যুৎ এর যেসব সেবা দেওয়ার মোবাইল নাম্বার গুলো আছে সেগুলো বেশিভাগ সময় বন্ধ পাওয়া যায়।

ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ওমর ফারুক জানান, ‘আমার বিদ্যুৎ বিল গত ২ মাস যাবত অস্বাভাবিক ভাবে বাড়ছে। যথাক্রমে ফেব্রুয়ারী, মার্চ, এপ্রিল মাসের বিদ্যুৎ বিল ছিলো ২০০ টাকা, ১৬২ টাকা, ১২০ টাকা। মে মাসে বিল আসে ৪৫০ টাকা এবং জুন মাসের বিল আসছে ৭০২ টাকা।’

বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাসনাত জাহান হিমু বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা কবে নাগাদ হবে জানিনা।
প্রতিদিন প্রস্তুতির জন্য পড়াশুনার ছন্দ, গতি ধরে রাখা অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তারপরও প্রতিনিয়ত লোডশেডিং পড়াশুনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বৃহস্পতিবার (২৫ শে জুন) সন্ধ্যা ৭ থেকে রাত্রি ১ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ ছিলো না।’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, বেলকুচি জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ মিনারুল ইসলামের জানান, ‘যাদের বিল বেশি আসছে সেক্ষেত্রে তাঁরা রমজান মাসে বেশি বিদ্যুৎ ব্যাবহার করেছে । তাছাড়া এরকমটা হওয়ার আরেকটা কারণ গত এপ্রিল মাসে করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় রিডিং/তথ্য নেওয়া স্থগিত ছিলো । যার ফলে এখন সঠিক রিডিং নেওয়ার জন্য বিল বেড়ে গেছে। লোডশেডিং এর বিষয়ে বলেন লাইন ফিউজ হলে বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে সঠিক তথ্য দিলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাছাড়া কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করি আশাকরি শীঘ্রই এ অবস্থার অবসান হবে।’

জাতীয় পাওয়ার সেল এর সর্বশেষ তথ্য জাতীয় অনুযায়ীঃ

বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (মেঃওঃ): ২৩৪৩৬
সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন (মেঃওঃ): ১২৮৯৩ (২৯ মে ২০১৯) গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৬৮ লক্ষ ।
মোট সঞ্চালন লাইন (সা.কি.মি.): ১২২৮৩
গ্রিড সাব-ষ্টেশন ক্ষমতা (এমভিএ): ৪৫১৯৪
বিতরণ লাইন (কি.মি.): ৫ লক্ষ ৬৪ হাজার ।
বিতরণ লস: ৯.৩৫% (জুন ২০১৯)
মাথাপিছু উৎপাদন (কিঃওঃআঃ): ৫১০
বিদ্যুৎ সুবিধা প্রাপ্ত জনগোষ্ঠী: ৯৭%

উপরের পরিসংখ্যান থেকে প্রতীয়মান আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (মেঃওঃ)= ২৩৪৩৬- ১২০০০ (মোট গ্রাহকের চাহিদা) = বাকী ১১৪৩৬ (মেঃওঃ) বিদ্যুৎ কোথায় যায়? কেন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ সম্ভব হয় না? ২০২০ এসেও কেনো এই লোডশেডিং? প্রশ্নগুলো রয়েই গেলো।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'