সিরাজগঞ্জের গৌরব মোহাম্মদ নাসিম

যমুনা সেতু সিরাজগঞ্জে হবে নাকি পাবনায় সেই অনিশ্চয়তাও তার প্রচেষ্টায় দূর হয়েছিল

সিরাজগঞ্জ আদি জেলা নয়। ছিল পাবনার একটা মহকুমা। আগ্রাসী যমুনার ক্রমাগত ভাঙ্গনে অন্যান্য জেলাগুলোর তুলনায় খুব সমৃদ্ধ কখনোই ছিল না। এই নবীন জেলা যাদের কৃতিত্বে পরিচিত তাদের মধ্যে একজন জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশে স্বাধীনতার পরবর্তীতে দেশদ্রোহীদের হাতে হত্যা হওয়ায় খুব বেশি দিন উনি সিরাজগঞ্জ বাসীর ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারার মত তেমন কিছুই করার সুযোগ পান নাই।

তবে সিরাজগঞ্জকে মোটামোটি বাসযোগ্য জেলাতে পরিনত করার ক্ষমতার মধ্যে সকল প্রচেষ্টাই করেছেন তার পুত্র জাতীয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম। উনি যখন সিরাজগঞ্জ সদর আসনের এমপি (১৯৯৬-২০০১) তখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী থাকাবস্থায় পাবনার মত আদি জেলাকে উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিস করেছিলেন। যমুনা সেতু সিরাজগঞ্জে হবে নাকি পাবনায় সেই অনিশ্চয়তাও তার প্রচেষ্টায় দূর হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে সিরাজগঞ্জ শহরে গ্যাস সংযোগ তারই একান্ত চেষ্টার ফসল। সিরাজগঞ্জে একটা সরকারী পলিটেকনিক, একটা সরকারী ম্যাটস, একটি নয়নাভিরাম অডিটরিয়াম সব কিছু উনিই করেছেন। দৃষ্টিনন্দন শেখ রাসেল শিশু পার্ক করার উদ্যোগ নিলেও সেটা উনি সম্পূর্ন করতে পারেন নি।

পরবর্তীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলে যদিও তিনি আর সিরাজগঞ্জ সদর আসনে এমপি ছিলেন না তারপরেও উনি সিরাজগঞ্জ সদরেই স্থাপন করেন জেলার প্রথম সরকারী মেডিকেল কলেজ। অনেক জেলার মানুষের চক্ষুশূল ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেন। কিভাবে সিরাজগঞ্জ জেলা এলএইচবি কোচ পায় তাও এসি সহ !!! আমাদের যে আছে অত্যন্ত প্রতাপশালী সিরাজগঞ্জ এর জনদরদী একজন মোহাম্মদ নাসিম।

আজ নিজ জেলার জন মানুষকে অকৃত্রিমভাবে ভালবেসে যাওয়া এই মানুষটা সুস্থ নাই। আল্লাহ তাকে সুস্থতা দান করুন এবং আমাদের মাঝে ফিরে আসার তৌফিক দান করুন। আলোচনা সমালোচনা থাকতে পারে কিন্ত যেদিন মানুষটা আমাদের মাঝে থাকবে না সেদিন বুঝবে সিরাজগঞ্জ বাসী তারা কি হারাবে! যদি কেও সিরাজগঞ্জের মানুষ হয়ে শুধু রাজনৈতিক কারনে তার অসুস্থতায় উল্লাশ প্রকাশ করে সে অকৃতজ্ঞ কুলাঙ্গার। আর অকৃতজ্ঞদের পরিনতি কখনো সুখকর হয় না।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'