একনজরে সরিষাবাড়ীর পিংনা ইউনিয়ন

সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়ন উপজেলা সদর হতে ২১ কি:মি: দূরে যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। পিংনা ইউনিয়নের উত্তরে আওনা ইউনিয়ন, দক্ষিনে টাঙাইল এর অরজুনা ইউনিয়ন, পূর্বে টাঙাইল জেলার ঝাওাইল ইউনিয়ন, পশ্চিমে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলা।

আয়তন ৮৩ বর্গকিলোমিটার এবং গ্রামের সংখ্যা ২২ টি। লোকসংখ্যাঃ ৩৫৫২৮ জন। পুরুষ ১৮৪৪৭ জন, নারী ১৭০৮১ জন।

নদী, খাল, ডোবা, পুকুর, কাঁচা রাস্তা, বিভিন্ন ধরণের পশুপাখি ও গাছ পালায় পরিপূর্ণ। নিচু জমিতে বর্ষার মৌসুমে পানি জমে থাকে ফলে কোন ফসল হয় না, শুষ্ক মৌসুমে সরিষা, ইরি ধান, মরিচ, পাট ও ডাল ইত্যাদির চাষ হয়। নদীতে ও খালে বিভিন্ন ধরনের মাছ পাওয়া যায়। গাছ পালায় ঘেরা সবুজ প্রকৃতি খুবই মনোমুগ্ধকর।

এই ইউনিয়নের দক্ষিন পাশ দিয়ে যমুনা নদী বয়ে গেছে।এছাড়াও এই ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে ছোট-বড় অনেক গুলো খাল, ।যেগুলো যমুনা নদী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এই নদীতে অনেক মাছ পাওয়া যায়।নদীর পানি খুব সুন্দর ও চকচকে। বর্ষকালে নদীতে অনেক পানি থাকে।

পিংনা ইউনিয়নের প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে জমি, নদী, খাল, পুকুর, মাছ, বৃক্ষ, পশু সম্পদ, উল্লেখযোগ্য নদী খাল, পুকুর। আবাদযোগ্য জমি ৬১৩৬,৬১ একর।

পিংনা ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত রাস্তা পাঁকা। তবে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর রাস্তা খুবই খারাপ অবস্থায় বিরাজমান। অনেক গ্রামের মানুষ নৌকা দিয়ে আসতে হয়। তাদের যোগাযোগের তেমন কোন রাস্তা নেই। বর্ষা মৌসুমে হাটু পানিতে নেমে আসতে হয়। কাঁচা রাস্তা ৬৪ কি.মি. ব্রীজ ১ টি, কালবার্ট ২৪ টি খেয়াঘাট ৩ টি, বাজার ৩ টি, ইউনিয়ন পরিষদ ১ টি, ডাকঘর ১ টি।

পিংনা ইউনিয়নে শিক্ষার হার ৫২%। ইউনিয়নে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯ টি, রেজিষ্ট্রার প্রাঃ বিঃ ৩ টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩টি, মোট মাদ্রাসা ৩টি তার মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ০১ টি, এতিমখানা ১ টি।

পিংনা ইউনিয়নে ০১ টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ১৬টি ডিসপেনচারী আছে। এছাড়া চিকিৎসা সেবা নিতে হলে উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়।

এই ইউনিয়নে প্রায় বেশিরভাগ মুসলমান বাস করে। তবে সামান্য কয়েকটি পরিবার হিন্দু সম্প্রদায় লোক বসবাস করে। তবে তাদের মধ্যে সর্বদা সৌহার্দ ভাব বজায় থাকে। সকলে মিলেমিশে সমজোতার মাধ্যমে কাজে এবং সামাজি, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অধিকার সমহারে ভোগ করে থাকে। যার যার ধর্ম সে সে পালন করে থাকে। একে অপরকে সার্বিক সহযোগীতা করে থাকে।

পিংনা ইউনিয়নের প্রায় সকল মানুষই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কৃষি পেশার সাথে জড়িত। এলাকাবাসীর তথ্য মতে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে পেশায় ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে ইউনিয়নের প্রধান পেশাগুলো দেওয়া হলো- কৃষি, দিন মজুর, পশু পালন, কামার, কুমার, সেলাই, রিক্সা-ভ্যান চালক।

পিংনা ইউনিয়নে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৬১৩৬৩৬ একর। তবে ইউনিয়নের কৃষি নির্ভরশীল মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৮৫% লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। এখানে সাধারণত ইরি ধান উৎপাদন হয়। এছাড়া সরিষা, মরিচ, ডাল, বাদাম , আলু , সবজী ও পাট উৎপাদন করা হয়। আশ্বিন কার্তিক মাসে নিচু জমিতে সরিষার চাষ ও উচু জমিতে মরিচের আবাদ করা হয়। পৌষ মাস থেকে সেচের মাধ্যমে ইরি ধানের চাষ করা হয়। এরপর বৈশাখ মাসে পাট চাষ করে থাকে। এছাড়া অল্প কিছু ডাল চাষ করে থাকে এবং সামান্য শাকসবজি চাষ করা হয়। যার জন্য নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে বাহির থেকে আমদানি করতে হয়।

বর্তমানে এই ইউনিয়নে পাওয়ার টিরারের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হয়। তবে দুই একটি হালের বলদ দিয়ে ও চাষাবাদ হয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে সেচ চালানো হয়ে থাকে।

পিংনা ইউনিয়নের অর্থনৈতিক উৎসের মূল ভিত্তি কৃষিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত । ৮০%- ৮৫% মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের সাথে জড়িত। অনেকে রিক্সা ও ভ্যান চালিয়ে, অন্যের জমিতে কাজ করে, মৎস্য চাষ ও মৎস্য আহরণ করে এবং তাঁত বুনে জীবনধারণ করে। এছাড়া কিছু লোক বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে ও ছোট ছোট ব্যবসায় করে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে সচল রাখছে।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'