রাতের আঁধারে ঈদ উপহার দিলেন তরুণ সাংবাদিকরা

তাহা রহমান,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ভাবুন তো একবার আপনার খাবার প্রয়োজন কিন্তু লোকচক্ষুর ভয়ে কোন অনুদান নিতে পারছেনা!এরোকম যদি হয় রাতের অন্ধকারে আপনার বাড়িতে কেউ খাবার পৌছায় দিয়ে আপনার খবর নিচ্ছে তাহলে কতই না ভালো হয়!

হ্যা এরোকমি ঘটেছে
রাত যখন গভীরতার দিকে এগোচ্ছে ঠিকক তখনি সমাজের দরিদ্র-অসহায়দের বাসায় গিয়ে দরজা নক করছেন একদল তরুণ। বাসার ভেতর থেকে আওয়াজ আসছে কে.? জবাবে আসছে আমরা সাংবাদিক একটু বেড়িয়ে আসুন। দরজায় আসা মাত্র হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে ঈদের একটি উপহার।

ঠিক এমনি ভাবে রাতে বৃষ্টিতে ভিজে ঠাকুরগাঁও জেলার কয়েকজন তরুণ সাংবাদিকের উদ্যোগে শহর সহ সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ১০০টি পরিবারের মাঝে পৌঁছে দিয়েছে ঈদ উপহার সামগ্রী।

ঈদ উপহারের মধ্যে ছিলেন : ৫ কেজি চাল, ৫শ গ্রাম সোয়াবিন তেল, ২৫০ গ্রাম ডাল, ৫শ গ্রাম লবণ, ৫শ গ্রাম সেমাই, ৫শ গ্রাম চিনি, ১টি জীবানুনাশক সাবান ও ১টি মাস্ক।

যানা যায়, অনলাইন টেলিভিশন ঠাকুরগাঁও জার্নালের পরিচালক ঠাকুরগাঁওয়ের তরুণ সাংবাদিক শাকিল আহমেদ,জার্নলের সদস্য সাংবাদিক নাহিদ রেজা,ওয়াদুদ হোসেন,সোহেল রানা,আব্দুল আউয়াল, জুনাইদ কবির, জাহিদ হাসান মিলু, জুয়েল ইসলাম শান্ত, সুজন ইসলাম,আসিফ জামান মিলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় করোনাভাইরাসে অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য। এরই লক্ষ্যে গত ১৭ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত শহরের কলেজপাড়া, হাজীপাড়া, গোবিন্দনগর, আশ্রমপাড়া, মাস্টারপাড়া, মুসলিমনগর, কালিবাড়ি, গোয়ালপাড়া, ঠাকুরগাঁও রোড ও সদরের সালন্দর, আকচা, মোহাম্মদপুর, বালিয়া, গড়েয়া, বেগুনবড়ি, নারগুন, জগন্নাথপুর ইউনিয়নে ঈদ উপহার দেয়া হয়।

সদর উপজেলার নারগুণ ইউনিয়নের বৃদ্ধা আম্বিয়া বেগম হাতে ঈদ উপহার পেয়ে আনন্দিত হয়ে জানান, এতো রাতে বৃষ্টিতে ভিজে সাংবাদিকলা হামাক(আমাদের) খাবার দিবা আইচ্ছে(দিতে এসেছে) এর জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।

সাংবাদিকদের হাতে ঈদ উপহারে পেয়ে শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার দিনমজুর আনোয়ার হোসেন জানান,করোনা ভাইরাসের কারনে দীর্ঘদিন ধরেই কোন কাজ করা যাচ্ছেনা। কি করবো,সামনে ঈদ। হঠাৎ এমন সময়ে একদল তরুণ সাংবাদিক রাতে আমাদের বাসায় এসে ঈদের উপহার হিসেবে খাদ্য দিয়েছে। আসলে তাদের এই ভালোবাসা দেখে আমরা মুদ্ধ। সাংবাদিকরাও যে এমন একটি মহৎ উদ্যোগ নিবে তা কখনও কল্পনাও করিনি। সৃষ্টিকর্তা তাদের ভাল রাখুক সবসময়।

ঠাকুরগাঁও জার্নালের পরিচালক তরুণ সাংবাদিক শাকিল আহমেদ বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে খেটে খাওয়া দিনমজুর, নিম্ন আয়ের মানুষসহ পথের বাস্তুহারা মানুষের জীবন পড়েছে হুমকিতে। সেই বিবেচনা থেকে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। এরপর সবাই মিলে নিজেদের বেতনভাতার টাকা ও অনেকের সহযোগিতায় অসহায় মানুষদের জন্য খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করা হয়। তারপর সেসব খাদ্যসামগ্রী ১০০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়।

তরুণ সাংবাদিক ওয়াদুদ হোসেন বলেন, বুধবার রাতে বৃষ্টিতে ভিজে অসহায়দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঈদ উপহার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শও দিয়েছি আমরা। সাংবাদিকরা সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। এই দুর্যোগেও আমরা বসে নেই। সাধ্যমতো কাজ করছি। সংকটময় সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে তৃপ্তি পেয়েছি।

সাংবাদিকদের এই কার্যকলাপকে সাধুবাদ জানিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, তরুণ সাংবাদিকদের এমন উদ্যোগ আসলেই প্রশংসনীয়। এটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তারা খুব ভাল একটি কাজ করেছে। তাদের মত করে সমাজের প্র্রত্যেকটি বিত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।

"স্বাধীনতার মহান স্থপতির এক (০১) আদর্শের" তত্ত্বীয় গবেষণাগার কর্তৃক সত্য প্রকাশে বিশ্বস্ত একটি অনলাইন পোর্টাল 'দৈনিক তরঙ্গ বার্তা'